শিশু ধর্ষণ, বাড়ছে শিশু ধর্ষণের ঘটনা, শিশু ধর্ষণ বাড়ছে কেনো, শিশু ধর্ষণ এবং হত্যা, শিশু ধর্ষণ এবং এর কারণ;

শিশু ধর্ষণের জন্য আপনি নিজেই কি দায়ী নন? বাংলাদেশ ও বিশ্ব পর্যালোচনা

শিশু ধর্ষণ, নারী নির্যাতন দায়ী কে? 

শুধু বাংলাদেশে নয়, এশিয়াতে নয়, তৃতীয় বিশ্বে নয়, বর্তমান কালে নয়, নির্দিষ্ট কোন ধর্মে নয়, নির্দিষ্ট কোন আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষিতেও নয়, শিশু ধর্ষণ সর্বকালের, এবং সারা বিশ্বজুড়ে এক মহাসংকট

সব মিলিয়ে শিশু ধর্ষণ বিশ্বে একটি মহামারী আকার ধারণ করেছে এবং এর সাথে একটি বিশাল ব্যবসায়িক দিকও জড়িয়ে রয়েছে

যে কোন কিছু বিবর্তনের মত শিশু ধর্ষণেরও বিবর্তনের ইতিহাস রয়েছে এই বিবর্তনে শিশু ধর্ষণের রূপ বদলেছে মাত্র শিশু ধর্ষণ প্রতিকার হয়নি। 

শিশু ধর্ষণে মেয়ে-শিশু এবং ছেলে-শিশু উভয়ই অন্তর্ভুক্ত তবে মেয়ে শিশুর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশী, এবং তাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক ক্ষতির পরিমাণও অনেকগুন ধর্ষিতা মেয়েদের সর্বনিম্ন বয়স কয়েক মাস পর্যন্ত হতে দেখা যাচ্ছে

আমার ভাবনাঃ শিশু ধর্ষণ বাড়ছে কেন 

অন্য অনেকের মত আমিও শিশু ধর্ষণের বিষয়টি মন থেকে সরিয়ে রেখে স্বাভাবিক এবং সুস্থ একটি পৃথিবীতে থাকার ভান করছিলাম

চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি, বিশ্বজুড়ে এক বিশাল বানিজ্য | ২য় পর্ব পড়তে ক্লিক করুন

কিন্তু যে কোন মহামারী শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিগ্রস্থ করে না, আশেপাশের সকলকে কমবেশী প্রভাবিত করে আজ না হোক কাল, কিংবা অন্য আরেকদিন

শিশু ধর্ষণের মহামারীতে আমি ক্রুদ্ধ, বিষন্ন, আতংকিত, এবং লজ্জিত কিছু না করতে পারার অপরাধবোধ এবং একধরণের অসহায়ত্ব থেকে এই লেখাটি লিখছি সুস্থ, স্বাভাবিকভাবে পৃথিবীতে থাকার ভান আর করতে পারছি না

শুধু বিচ্ছিন্নভাবে ব্যক্তিপর্যায়ে এবং অবৈধ বানিজ্যিক ক্ষেত্রেই কি শিশু ধর্ষণ হচ্ছে? সামাজিক অনুমোদনে বৈধ প্রক্রিয়ায় কি শিশু ধর্ষণ হচ্ছে না?

বাল্যবিবাহ কি শিশু ধর্ষণকে সামাজিক বৈধতা দিচ্ছে না? ধর্ষক কি নিজেও কোন সহিংস অভিজ্ঞতার শিকার কিনা? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দেখার প্রচেষ্টা করেছি এই লেখাতে।  

শিশু ধর্ষণ, বাড়ছে শিশু ধর্ষণের ঘটনা, শিশু ধর্ষণ বাড়ছে কেনো, শিশু ধর্ষণ এবং হত্যা, শিশু ধর্ষণ এবং এর কারণ
শিশু ধর্ষণ

রক্ষক যখন ভক্ষক 

ব্যক্তিগত পর্যায়ে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক এবং প্রতিবেশীদের দ্বারা শিশু-ধর্ষণ সংঘটিত হয় শিশু ধর্ষণ হলো শিশু নিপীড়নের অন্তর্ভুক্ত

বয়সে বড় এবং অধিকতর শক্তিশালী আরেক শিশু, অভিভাবক, নিকটাত্মীয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত অভিভাবক, বা কতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক যেমন স্কুল শিক্ষক, ধর্ম গুরু, থেরাপিস্ট প্রৃভৃতি সম্পর্কের দ্বারা ধর্ষিত হতে পারে। এই ধর্ষণের প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয় সম্ভব নয়

একুইনটেন্স রেপপরিবারের বাইরে কিন্তু পরিচিত কারোর মাধ্যমে ঘটে থাকে অনেক ক্ষেত্রেই ড্রাগ ব্যবহারের মাধ্যমে এই ধরণের ধর্ষণের ঘটনা ঘটানো হয় স্কুল, কলেজের কিশোর, তরুনীরা এই ধরণের ধর্ষণের শিকার হওয়ার অন্যতম একটি দল

গ্যাং রেপ বা দলগত ধর্ষণে দুই বা ততোধিক পুরুষ একজনকে ধর্ষণ করে থাকে এগুলি হলো ব্যক্তি পর্যায়ে অননুমোদিত ধর্ষণ

কাস্টোডিয়াল রেইপ বা তত্ত্বাবধায়ক-ধর্ষণ কোন কতৃত্বমূলক সম্পর্কের অধীনে হয়ে থাকে শিশু ধর্ষণের ক্ষেত্রে এটি সর্বাধিক হয় শিক্ষক, এবং ধর্মীয় গুরুদের মাধ্যমে ধর্ষণ শুধু নির্যাতনে সীমাবদ্ধ থাকে না কখনো কখনো শিশুদের প্রাণহানীও ঘটে থাকে

বাল্যবিবাহের মাধ্যমে শিশু ধর্ষণ রক্ষকদের ছাতার নীচেই সংঘটিত হয়

২০০০ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত পুরো আমেরিকায় ২৪০,০০০ জন শিশু কন্যার বিয়ে হয়েছে

বাল্য বিবাহ তথা শিশু ধর্ষণ

বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন রাখেন, কোন বয়সে একজন মানুষ যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার যোগ্যতা অর্জন করে? ১০১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮ নাকি ২১?

গত ৩০০ বছর যাবত উল্লেখিত বয়সগুলিকে যাদুকরী বয়স হিসাবে এই সিদ্ধান্ত নেয়ার আইনগত বৈধতা দেয়া হয়েছে বয়ঃসন্ধিকালে কি একজন এমন বয়সে পৌছাবে যখন শারীরিক, মানসিক, এবং আবেগের পুর্নতা আসবে এবং সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা আসবে?

কিন্তু বাল্যবিবাহের মাধ্যমে পারিবারিক, সামাজিক, এবং রাষ্ট্রীয় অনুমোদনে শিশু ধর্ষণ ঘটে থাকে পরিবারের সম্মতি এবং রাষ্ট্রীয় আইনের ছত্রচ্ছায়ায় বাল্যবিবাহ পৃথিবীর সর্বত্র প্রচলিত

বাল্যবিবাহে দুই ধরণের ধর্ষণ হয়ে থাকে এক, ম্যারিটাল রেপ বা বৈবাহিক ধর্ষণ এবং দুই, স্ট্যাচুটরী রেইপ বা সংবিধিবদ্ধ ধর্ষণ

যুদ্ধে শিশু ধর্ষণ কী অনুমোদিত? ৩য় পর্ব পড়তে ক্লিক করুন

বিবাহিত বা সম্পর্কিত দম্পতির একজনের অনিচ্ছায় জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক হলে তাকে বৈবাহিক ধর্ষণ বলে আইন কতৃক নির্ধারিত বয়সের চাইতে কম বয়সের কারোর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা হলে তাকে সংবিধিবদ্ধ ধর্ষণ বলা হয়

এই ক্ষেত্রে সেটা সহিংস বা জোরপূর্বক না হলেও তাকে ধর্ষণ বলা হবে

রাষ্ট্র ভেদে এই আইনগত বয়সের সীমা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে এই ন্যুনতম আইনি বয়স একজনের ঠিক আছে, কিন্তু আরেকজনের বয়স অনেক বেশী হলো তখন এই সম্পর্কে স্থাপিত যৌন সম্পর্ককে সংবিধিবদ্ধ ধর্ষণ বলা হয়

তাই যে সব মেয়ের বাল্যবিবাহে বা সম্পর্কে পুরুষের সাথে বয়সের পার্থক্য অনেক বেশী থাকে তখন তা ধর্ষণ বলে বিবেচিত হবে

শিশু ধর্ষণ, বাড়ছে শিশু ধর্ষণের ঘটনা, শিশু ধর্ষণ বাড়ছে কেনো, শিশু ধর্ষণ এবং হত্যা, শিশু ধর্ষণ এবং এর কারণ
শিশু ধর্ষণ

বাল্যবিবাহে ম্যারিটাল রেইপ এবং স্ট্যাচুটরী রেইপ উভয় হয়ে থাকে বাল্য বিবাহ একটি জোরপূর্বক, এবং কন্যার সম্মতিহীন একটি বিয়ে বিয়েতে অভিভাবকদের ভয়ে বা প্রভাবে বিয়েতে হ্যাবললে সেটাকে সম্মতি বলা যাবে না

দেখতে হবে কন্যাটি বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ার এবং বিবাহিত জীবনের দায়িত্ব নেয়ার মত শারীরিক এবং মানসিক সামর্থ্যে পৌছেছে কিনা

১৮ বছরের নিচে যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ১৫ বছরের নিচে, সেই বয়সের একজন কন্যাকে শিশু বলতে হবে তাই শিশু বিবাহে একটি মানবিক অধিকার লঙ্ঘন হয়

বিবাহিত জীবনে শুধু শিশু নয়, একজন পূর্ণাংগ নারীকেও যদি ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌনমিলনে বাধ্য করা হয় তাহলে সেটা হবে ম্যারিটাল রেইপ উন্নত দেশগুলিতে ম্যারিটাল রেইপের জন্য আইনগত সাহায্য নেয়ার বিধান রয়েছে

রাষ্ট্রীয় আইন অনুমোদিত বিয়ের ন্যুনতম যোগ্য বয়সকে বলা হয় এইজ অফ কনসেন্ট এই ন্যুনতম বয়স কি শিশু বিবাহকে অনুমোদন করে?

যদি করে, তাহলে আমরা বলতে পারি রাষ্ট্র, সমাজ, এবং পরিবার মিলে বিবাহ প্রথার মাধ্যমে শিশু ধর্ষনের ব্যবস্থা করে আসছে তাহলে আমরা দেখি রাষ্ট্র কি শিশু বিবাহ অনুমোদন করে, নাকি করে না?

এই অনুমোদন কি নির্দিষ্ট কিছু রাষ্ট্রে? এই অনুমোদনের ইতিহাস কি বিলুপ্ত একটি অতীত?

বিবাহিত বা সম্পর্কিত দম্পতির একজনের অনিচ্ছায় জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক হলে তাকে বৈবাহিক ধর্ষণ বলে

মুসলিম দেশে শিশু ধর্ষণ এবং আমাদের ট্যাবু 

বাল্যবিবাহ তথা শিশু ধর্ষণ নিয়ে আলোচনা হলেই শুনতে পাই এইসব প্রচলন শুধু বাংলাদেশের মত দরিদ্র মুসলিম দেশ এবং সৌদি আরবের মত ইসলামিক শাসনব্যবস্থার দেশে বিরাজ করে বিয়ের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় আইনের ইতিহাস কিন্তু ভিন্ন কথা বলে

বিস্ময়ের ব্যাপার হলো যে পৃথিবীর সকল দেশে উনবিংশ শতাব্দী এবং কোথাও কোথাও বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত শিশু বিবাহ রাষ্ট্রীয় আইনে অনুমোদিত ছিল

উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপে উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত ১০-১২ বছরে বিয়ে রাষ্ট্রীয় আইনে অনুমোদিত ছিল সাম্রাজ্যবাদী এই সব দেশের আইন তাহলে তাদের সকল উপনিবিশেও থাকবে সেটাই স্বাভাবিক তাহলে বিষয়টি সারা বিশ্বব্যাপি ছিল তাই না?

বাল্যবিবাহ নিয়ে সংখ্যাগত সমীক্ষায় শুধু উন্নয়নশীল দেশের বাল্যবিবাহ উঠে আসে উন্নয়নশীল দেশের এক-তৃতীয়াংশ মেয়ের বিয়ে হয় ১৮ বছর বয়সের আগে এবং প্রতি ৯ জনে একজন মেয়ের বিয়ে হয় ১৫ বছরের আগে

শিশু ধর্ষণ, বাড়ছে শিশু ধর্ষণের ঘটনা, শিশু ধর্ষণ বাড়ছে কেনো, শিশু ধর্ষণ এবং হত্যা, শিশু ধর্ষণ এবং এর কারণ
শিশু ধর্ষণ

ইউএনডিপির হিসাবে ২০১২ সালে সারা পৃথিবীতে ৭০ লাখ মেয়ের বাল্যবিবাহ হয়েছে একইভাবে চলতে থাকলে পরবর্তী দশকে ১৫০ লক্ষ মেয়ের বাল্যবিবাহ হবে

আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সবচাইতে বেশী শিশুকন্যার বিবাহ হয় জনসংখ্যার বিপুল আয়তনের কারণে দক্ষিন এশিয়ায় শিশু-বঁধুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশী

ইউএনএফপিএ রিপোর্ট অনুযায়ী উন্নয়নশীল দেশগুলিতে প্রতিদিন ১৮ বছরের কমবয়সী ২০,০০০ মা শিশু সন্তানের জন্ম দেয় বছরে এই সন্তান জন্মের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭.৩ মিলিয়ন

শুধু গর্ভধারনের হিসাব এর চাইতে অনেক বেশী হবে বাংলাদেশ, চাদ, গায়েনা, মালি, মোজাম্বিক, এবং নাইগার ইত্যাদি দরিদ্র দেশগুলিতে বাল্য বিবাহের প্রচলন এই হিসাবে উল্লেখযোগ্য

ধর্মীয় হিসাবে ইরাক, পাকিস্তানে ৯ বছরে বিয়ের অনুমোদন রয়েছে সৌদি আরবে কোন বয়সসীমা নেই সেই হিসাবে সেখানে জন্মগ্রহনের পর থেকেই একজন শিশু কন্যা বিবাহের উপযুক্ত হয়ে যায়

তথা কথিত সভ্য দেশে শিশু এবং নারী নির্যাতন 

এই হিসাবে মনে হতে পারে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বিশেষ করে উন্নত, সভ্য দেশগুলিতে সম্ভবত বাল্য বিবাহ নেই উন্নয়নশীল দেশের জন্যই শুধু বর্তমান এই সমস্যা তাই কি? দেখা যাক তাহলে উন্নত রাষ্টগুলোর কি অবস্থা।

১৯২০ সালের আগে পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় অনুমোদনে বিয়ের বয়স ইউরোপ, দক্ষিন আমেরিকায় ১২-১৫ বছর, রাশিয়ায় ১০ বছর, চিলিতে ১৮ বছর ছিলো

প্রাচীন সময় থেকে বহু সমাজে শিশুদেরকে ধর্ষণ এবং অন্যান্য যৌন নিপীড়ন থেকে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা হিসাবে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের সংবিধিবদ্ধ বয়সসীমা নির্ধারণ করেছে

অবশ্য স্থান-কাল ভেদে এই যৌন-নিপীড়নের সংজ্ঞার ভিন্নতা হয়েছে ঐতিহাসিকভাবে এই আইননগত বয়সসীমার সময় এবং সংস্কৃতি ভেদে ১০-১৩ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এবং ঋতুঃস্রাব হওয়াকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া মনে করা হয়েছে

উল্লেখ্য যে, কিছু দেশে এখনও তার প্রচলন রয়েছে এই বয়সে অভিভাবকদের মতামত ছাড়াই একজন কন্যাশিশু বিবাহের সিদ্ধান্তে যেতে পারতো

মার্কিন যুক্ত্ররাষ্ট্রে এই বয়স ছিল ১০ বছর ১৯২০ সালের আগে পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় অনুমোদনে বিয়ের বয়স ইউরোপ, দক্ষিন আমেরিকায় ১২-১৫ বছর, রাশিয়ায় ১০ বছর, চিলিতে ১৮ বছর ছিলো

শিশু ধর্ষণ, বাড়ছে শিশু ধর্ষণের ঘটনা, শিশু ধর্ষণ বাড়ছে কেনো, শিশু ধর্ষণ এবং হত্যা, শিশু ধর্ষণ এবং এর কারণ
শিশু ধর্ষণ

১৯২০ সালের পর ২০০৭ সাল পর্যন্ত অস্ট্রিয়া, বুলগেরিয়া, জার্মানী, ইটালী, পর্তুগাল ব্রাজিল, ইকুয়েডর, কানাডাতে ১৪ বছর ২০০৭ সাল পর্যন্ত স্পেন, আর্জেন্টিনাতে ১৩ বছর রোমানিয়া, সুইডেন, কলারোডোতে ১৫ বছর

কলারোডোতে ১৯২০ সালে ১৮ বছর করে তারপর আবার ১৫ বছরে নামানো হয়েছিল বর্তমানে প্রায় সব দেশে বিয়ের আইনগত ন্যুনতম বয়স ১৬-১৮ বছর অভিভাবকদের সম্মতিতেই এইজ অফ কনসেণ্ট বা বিয়ের বয়সের ন্যুনতম আইনি বয়স কমানো হয়েছে

পর্তুগাল, স্পেন, ডেনমার্ক এবং সুইস ক্যাননে ১০-১২ বছরে বিয়ের আইন ছিল উনবিংশ শতাব্দীর শেষাংশে রাষ্ট্রীয় আইন এই বয়স বাড়িয়ে ১৩ বছর থেকে ১৬ বছরে উত্তীর্ণ করে ঐতিহাসিকভাবে, ইংলিশ কমন ল অনুযায়ী অনুমোদিত বয়স ছিল ১০ থেকে ১২ বছর

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাল্যবিবাহ এবং নারী নির্যাতন 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৮৮০ সালের মধ্যে বেশীরভাগ প্রদেশে অনুমোদিত বিয়ের বয়স ছিল ১০-১২ বছর দেলাওয়্যার নামক একটি প্রদেশে অনুমোদিত বিয়ের ছিল মাত্র ৭ বছর

আনচেইন দ্যা লাস্ট এর গবেষনা অনুযায়ী ২০০০-২০১০ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১২ বছরের মেযেদের বিয়ে হয়েছে ২৭টি স্টেট এ কোন নির্দিষ্ট বয়সের উল্লেখ নাই যার চাইতে কম বয়স হলে বিয়ে করতে পারবে না

সব স্টেটের আইনে ঠিকই বলা হয় ১৮ বছর না হলে বিয়ে করতে পারবে না কিন্তু অভিভাবকের সম্মতিতে কোর্ট থেকে অনুমতি নিয়ে আবার তা সম্ভব হবে এই সময়কালে ৩৮টি স্টেটে ১৬৭,০০০ জনের বিয়ে হয়েছে যাদের অধিকাংশ ছিল ১২ বছর বয়সের

তারা মুসলিম, অর্থডক্স জুইস, ক্রিশ্চিয়ান বা কোন ধর্মের সেটা কোন বিবেচ্য বিষয় নয় ২০০০ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত পুরা আমেরিকায় ২৪০,০০০ জন শিশু কন্যার বিয়ে হয়েছে এর বিশাল অংশে পুরুষের বয়স শিশু কন্যাদের চাইতে অনেক বেশী ছিল

অদ্যাবধি, আমেরিকায় অনেক ক্রিশ্চিয়ান, মুসলমান, জুইসসহ অন্যান্য ধর্মে, এমনকি ধর্ম অ-পালনকারীদের মধ্যেও এধরণের বিয়ে দৃশ্যমান

শিশু ধর্ষণ, বাড়ছে শিশু ধর্ষণের ঘটনা, শিশু ধর্ষণ বাড়ছে কেনো, শিশু ধর্ষণ এবং হত্যা, শিশু ধর্ষণ এবং এর কারণ
শিশু ধর্ষণ

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে আলাবামা, সাউথ ক্যারোলিনা, এবং উতাহতে ১৪ বছর, নিউ হ্যাম্পশায়ারে ১৩, ম্যাসাচুসেটস এবং ক্যানসাসে ১২ বছর বয়সী শিশু কন্যাদের বাল্যবিবাহ হয়েছে। 

এই সব বিয়েতে বয়সের পার্থক্য এমনও ছিল যে স্টেট ল অনুযায়ী সেটা স্ট্যাচুটরী রেইপ বা সংবিধিবদ্ধ ধর্ষণ কখনো কখনো ধর্ষনের কারণে গর্ভবতী হলেও কোর্ট থেকে এরকম শিশু বিবাহের সিদ্ধান্ত দেয়া হয় অভিভাবকের অনুমতি এবং আদালতের জজের স্বাক্ষরের মাধ্যমে

সমাজ এবং রাষ্ট্রঃ যৌথ প্রযোজনা 

তাহলে সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় অনুমোদনেই বাল্যবিবাহের মাধ্যমে শিশু ধর্ষণের ঘটনা আমরা এতদিন মেনে এসেছি মাত্র বিংশ শতাব্দীর শেষ দিক থেকে বিয়ের বয়স ১৬ কিংবা ১৮ তে উত্তীর্ণ হয়েছে সেটাও আবার মানা হচ্ছে না আইনের সাহায্য নিয়েই

নারী-পুরুষের বৈষম্য তৈরীর পিছনে শিশু বিবাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আবার নারী-পূরুষ বৈষম্য এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার কারণে শিশু ধর্ষণ ঘটে থাকে

অনেক কারণের সমন্বয়ে একজন শিশু কন্যাকে বিয়ে জনিত ঝুঁকিতে পড়তে হয় উল্লেখযোগ্য কারণগুলি হলো, দারিদ্র, বিবাহের মাধ্যমে মেয়েদের নিরাপত্তা প্রদান, পারিবারিক সম্মান, সামাজিক নর্ম, প্রচলিত এবং ধর্মীয় আইন, অপর্যাপ্ত আইনগত কাঠামো, এবং একটি দেশের নাগরিক রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা

শিশু বিবাহ প্রায় সকল ক্ষেত্রেই মেয়েদের আত্ম উন্নয়ন বাঁধার কারণ হয় কারন বিয়ের ফলে কম বয়সে গর্ভবতী হয়ে সংসার জীবনে আবদ্ধ হয়, স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়, এবং কালক্রমে পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়। 

শিশু বিবাহ ছেলেদেরও ক্ষতি করে তবে মেয়েদের তুলনায় তা অনেক কম বাল্যবিবাহ মানে নারীর শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজনকে অস্বীকার করা, আর্থিক স্বনির্ভরতা অস্বীকার করা, একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসাবে নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা। 

সামনেই আসছে এই লেখার দ্বিতীয় পর্ব।

 লিখেছেনঃ ফাতেমা বেগম

fatemaorama@gmail.com

তথ্য সূত্রঃ 

১। https://en.wikipedia.org/wiki/Marriageable_age

২।http://childfriendlyfaith.org/information-about-abuse-neglect-by-religion/

  ৩।http://en.radiovaticana.va/news/2015/08/11/church_in_pakistan_expresses_shock_at_child_abuse_scandal_/1164345)

৪।http://www.mirror.co.uk/news/world-news/screaming-infants-head-cut-knife-4564380

 

৫।https://www.huffingtonpost.com/arzu-kaya-uranli/nowhere-does-islam-excuse_b_5176425.html

৬।https://www.independent.co.uk/news/world/within-these-walls-inside-the-legal-brothels-of-bangladesh-a7388676.html

  ৭।https://www.icrw.org/child-marriage-facts-and-figures/

.৮।https://data.unicef.org/resources/end-child-marriage-progress-and-trends-animated-video/

.৯।https://www.theatlantic.com/international/archive/2015/03/child-marriage-map/387214/

১০।https://discover-the-truth.com/2013/09/09/age-of-consent-in-european-american- history/

 

১১।https://www.vice.com/en_us/article/qbe8bp/the-child-rape-assembly-line-0000141- v20n11)

১২।http://wunrn.com/2016/06/minimum-age-for-legal-marriage-around-the-world-girls/

১৩।http://www.independent.co.uk/news/world/the-lowest-age-you-can-legally-get-married-around-the-world-10415517.html.

১৪। https://www.theguardian.com/commentisfree/2010/apr/25/middle-east-child-abuse-pederasty.

১৫।https://discover-the-truth.com/2017/03/12/13-year-old-girls-permitted-to-marry-by-  law-in-new-hampshire-america-2017/

১৬।https://www.youtube.com/watch?v=7dQVRLrCbZs

 

Share this