ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী বলসোনারোর উন্থান

ব্রাজিলের নির্বাচন ২০১৮, ট্রাম্প খ্যাত জেইর বলসোনারোই কী প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন?

ট্রাম্প খ্যাত জেইর বলসোনারো

আমরা সাধারণত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং রাজনৈতিক দলের মতাদর্শকে সমালোচনা করি। প্রান্তিক মানুষের অধিকার বিরুদ্ধ এজেন্ডা ধারণকারী রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে ব্যাপক আলোচনা করি।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোটটা সেই অধিকার বিরুদ্ধ এজেন্ডা ধারণকারীদের পাতে দিয়ে আসি! না হলে কি আর পৃথিবীজুড়ে ডানপন্থীদের এতটা উন্থান ঘটে! লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের নির্বাচন-২০১৮ ঘিরে উত্তাপের যে দমকা বইছে তা আমাদের কি বার্তা দিচ্ছে?     

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় কোন রাখঢাক না করে সরাসরি মানবতা বিরোধী বক্তব্য রেখেছিলেন। কিন্তু তিনি বিজয়ী হলেন।

মানবতার কি পরাজয় হবে ব্রাজিলে

ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেইর বলসোনারোর আদর্শগত অবস্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে তিনি ট্রাম্পকে তার অনুসরণীয় আদর্শ বলছেন এবং তার মানবতাবিরোধী অবস্থান ট্রাম্পের চাইতে আরও স্পষ্ট এবং ন্যাক্কারজনক।

তারপরও তিনি ২০১৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৪৬% এর বেশী ভোটে নির্বাচনের প্রথম ধাপে বিজয়ী হয়েছেন। আগামী ২৮শে অক্টোবরে দ্বিতীয় এবং চুড়ান্ত দফার নির্বাচন হবে।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, মানুষ তো বুঝে শুনেই এরকম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করছে। তাহলে কী আমাদের মধ্যে প্রচুর মানুষ আছে যাদের কাছে মানবতা গুরুত্বপূর্ণ নয়?

ভোট একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। তাহলে একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাজে কী মানবতাবিরোধী চেতনা প্রতিষ্ঠা পেতে পারে? ব্রাজিলে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন বামপন্থী  সরকার কেন জনপ্রিয়তা হারালো?

ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী বলসোনারোর উন্থান
ব্রাজিলের নির্বাচন ২০১৮ এর প্রেসিডেন্ট পদে এগিয়ে থাকা ডানপন্থী জেইর বলসোনারো।

বাম না ডান ? 

আসলেই কি তারা বাম চেতনা ধারণ করছিল? এই প্রশ্নগুলোকে লক্ষ্য রেখে আজকের এই আলোচনা।

পর্তুগাল এবং ডাচের কলোনী হিসাবে ইতিহাসে সর্বাধিক দাস শ্রমিক আমদানী করা হয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলে। ১৫০০ খৃষ্টাব্দে পর্তুগীজ দখলের বহু পুর্ব থেকেই এখানে বিভিন্ন গোষ্ঠীর আদিবাসীদের বসবাস ছিল।  

এই অঞ্চলে প্রায় ১১০০০ বছর পূর্বের মানুষের অস্তিত্বের প্রমান পাওয়া গিয়েছে। পর্তুগীজ সাম্রাজ্যবাদের আওতায় এই আদিবাসীদের দাস বানানো হয়। তবে ইউরোপ থেকে আমদানীকৃত রোগ জীবানুতে আক্রান্ত হয়ে এদের অনেকে মারা যান।

তাই পরবর্তীতে চিনি, শিল্প, সোনার খনি এবং ইউরোপের টেক্সটাইল শিল্পে রঙ তৈরীর কাজে ব্যবহৃত ব্রাজিলের উড গাছ বাণিজ্য ইত্যাদি কাজে আফ্রিকা থেকে সর্বাধিক পরিমানে দাস আমদানী হয়।

পর্তুগালে অবস্থিত ইহুদিদের জোরপুর্বক ক্যাথলিক ধর্মে রূপান্তরিত হতে বাধ্য করা হয়েছিল। এই ধর্মান্তরিত ইহদীদেরকে নিউ ক্রিশ্চিয়ান বলা হতো। তাদেরকে ব্রাজিলে স্থানান্তরিত করা হয়। নিউ ক্রিশ্চিয়ানরা উৎসাহিত হয়ে ব্রাজিলে চলে আসে।

দরিদ্র মানুষদের জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য শিক্ষা দিয়ে লাভ নেই

তাদের মনে সুপ্ত আশা যে তারা ব্রাজিলে এসে তাদের ইহুদী ধর্মের অধিকার পূনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারবে। মূলত ইন্ডিয়ান আদিবাসী, আফ্রিকার দাস বংশোদ্ভূত নাগরিক এবং ইউরোপীয়দের সংমিশ্রনে ব্রাজিলের জনগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে।   

ব্রাজিল রাষ্টের পথচলা 

১৮২২ সালে  কলোনী রাষ্ট্র থেকে ব্রাজিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রটি মিলিটারী একনায়কতান্ত্রিক শাসনের আওতায় ছিল।

সেই ব্রাজিলে ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন চলছে। মার্কিন যুক্ত্ররাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যবসা জগতের একটি ব্র্যান্ড নাম থেকে বর্তমানে একটি রাজনৈতিক ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।  ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম ধাপে সংখ্যা গরিষ্ঠ ভোটে বিজয়ী জেইর বলসোনারোকে ব্রাজিলের ট্রাম্প বলা হচ্ছে।

কেন তাকে ‘ব্রাজিলের ট্রাম্প’ বলা হচ্ছে? নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রচুর মানবতা বিরোধী কথা বলেছেন, মুসলিম ধর্মকে অবজ্ঞা প্রদর্শন করে উগ্র খ্রিস্টানবাদীদের উসকে দিয়েছেন, প্রচণ্ড রকমের পুরুষতান্ত্রিক মন মানসিকতা তিনি যে পোষণ করেন তা নির্লজ্জের মতো বলেছেন।

ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী বলসোনারোর উন্থান
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতো জেইর বলসোনারোও সমকামীতার প্রচণ্ড বিরোধী

অন্যদিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জেইর বলসোনারো সাম্প্রতিক সময়ে তার নির্বাচনী প্রচারের সময় যা যা বলেছেন তার অধিকাংশই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের সাথে মিলে যায়।

জেইর বলসোনারোর মানবতা বিরোধী মন্তব্য   

১। ইমিগ্র্যান্টরা অপদার্থ। তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, আদিবাসী এবং দাস বংশোদ্ভুত ব্রাজিলিয়ানদের অবস্থানে থাকা সব জমি দখল নিয়ে বিক্রি করে দেয়া উচিত।

২। নির্বাচনী প্রচারণাকালে ‘ফাবেলা’ নামে বৃহৎ জনগোষ্টীর বাসস্থান যেখানে অধিকাংশ অধিবাসী হচ্ছে দরিদ্র এবং কালো মানুষ। তিনি হেলিকপ্টার থেকে প্রচারপত্র ছুড়ে ফেলেছেন। তিনি সশরীরে সেখানে যান নাই। কালো ব্রাজিলিয়ানরা পুলিশী নির্যাতনের সবচাইতে বড় শিকার।

৩। বিশ্ববিদ্যালয় এবং চাকুরীতে নারী এবং কালো ব্রাজিলিয়ানদের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর জন্য পূর্বের সরকারদের প্রবর্তিত কোটা পদ্ধতি বাতিল করার পক্ষে জেইর বলসোনারো।

৪। দরিদ্র মানুষদের জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য শিক্ষা দিয়ে লাভ নেই। বলসোনারোর দৃষ্টিতে তারা শিক্ষা গ্রহনের জন্য আগ্রহী নয়, প্রস্তুত নয়। তাদেরকে জন্ম নিয়ন্ত্রণের শিক্ষা দেয়া একটি মূর্খতা। বরং সরাসরি তাদের প্রজনন ক্ষমতা নির্মূল করে জন্ম নিয়ন্ত্রণ করা উচিৎ। এইভাবে জন্ম নিয়ন্ত্রণই একমাত্র সমাধান।  

৫। ব্রাজিলে বৈধ সমলিঙ্গের বিবাহকে তিনি যৌন-শোষনের সাথে তুলনা করেছেন। সমকামী,  নারী, এবং কালো জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার আন্দোলনে ব্রাজিল যে অগ্রসরতা লাভ করেছে, জেইর বলোসারো প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসাবে সেই অগ্রসরতার বিপরীতে অবস্থান  করছেন।

সমকামী সম্প্রদায়ের প্রতি তিনি প্রচন্ড ঘৃণা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমার  ছেলে সমকামী হলে তাকে কখনই ভালবাসতে পারবো না। আমি তার চাইতে আশা করবো যেন আমার ছেলে দুর্ঘটনায় মারা যায়। যদি কারোর সন্তান সমকামী হয়, তাহলে অভিভাবকের উচিৎ তাদেরকে চাবুক মেরে সোজা করা।

সমকামী দম্পতির বাসার আশে পাশের বাড়ির  বাজার দর কমে যাবে। সমকামী দম্পত্তির দত্তকে যে সকল শিশু থাকবে, তারা নির্যাতিত  হবে। আমি বৈষম্যে বিশ্বাসী এবং গর্বিত। আমার পরিবারে সমকামী সন্তান জন্ম নেয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ আমার পরিবারে ভালো শিক্ষা দেয়া হয়।”

শিশু ধর্ষণ এবং আমাদের দায়বদ্ধতা- পড়তে ক্লিক করুন

৬। তিনি ব্রাজিলের নারীবাদীদের শুধুমাত্র ‘ওরাল সেক্স’ এর জন্য উপযুক্ত মানুষ হিসাবে অভিহিত করেছেন।

৭। তার ৫ জন সন্তানের মধ্যে পঞ্চম সন্তানটি কন্যা সন্তান। তিনি বলেন, এই কন্যা সন্তানের জন্ম ছিল একটি ‘মুহূর্তের দুর্বলতা’।

৮।এই বিষয়ে বিতর্ক চলাকালীন সময়ে মানবাধিকার মন্ত্রী মারিয়া দ্যো রোসারিও তাকে একজন রেপিস্ট বললে জেইর বলেন রোজারিও এত কুৎসিত যে তিনি বলোসারোর কাছে ধর্ষিত হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। পরে জেইর বলোসারো এই কারণে দন্ডপ্রাপ্ত হন।

৯। পুরুষ এবং নারীর সমান মজুরী হওয়া উচিৎ নয়। কারণ নারীরা গর্ভবতী হয়। তিনি আরও বলেছেন যে বাধ্যতাকালীন রাষ্ট্রীয়ভাবে মাতৃত্বকালীন মজুরিসহ ছুটি কাজের উৎপাদনশীলতা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী বলসোনারোর উন্থান
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জেইর বলসোনারোর নারী বিরোধী মন্তব্যের প্রতিবাদ করছে ব্রাজিলের নারীরা।

১০। মতাদর্শগত মিলের জন্য ব্রাজিলের খ্রীষ্টান ধর্মের এভানজেলিকাল গোষ্ঠী জেইর বলসোনারকে সমর্থন করছে।

১১। তিনি ভ্যংকর পুলিশ বাহিনীকে আরও ক্ষমতা দিতে চান মানুষকে হত্যা করার জন্য।

তার ব্যাখ্যায় অস্ত্র, পুলিশ এবং আর্মি কতৃত্ব দেশের মূল চালিকা শক্তি হবে। অস্ত্র আমদানী  বাড়াতে হবে।

 ১২। তিনি সেইসব মিলিটারী ব্যক্তিত্বকে আদর্শ হিসাবে উল্লেখ করছেন যারা ক্ষমতা কুক্ষীগত করেছিল এবং যারা বিতর্কিত শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের মডেলকে অর্থনীতিতে প্রয়োগ করার জন্য সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদদের নিয়োজিত করেছিলেন।

১৩। ১৯৬৪-৮৫ সাল পর্যন্ত মিলিটারী শাসনকাল ব্রাজিলের জন্য একটি গৌরবোজ্জ্বল সময়কাল। তিনি ল্যাটিন আমেরিকার অন্যান্য দেশে মিলিটারী একনায়কতন্ত্রকে সমর্থন করেন।

চিলির অগাস্টো পিনোশেটের একনায়কতন্ত্রের প্রশংসা করে বলেন, এই পিনোশেট শাসনামলে ৩০০০ চিলির নাগরিকদের হত্যা করা হয়েছিল, এই হত্যাকান্ড আরও বেশী হওয়া উচিৎ ছিল।

তিনি কর্ণেল ব্রিহান্তে উস্ট্রা, যিনি ব্রাজিলে মিলিটারী শাসনকালে একটি টর্চার ইউনিটের প্রধান ছিলেন, তার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন এবং শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। জেইর বলোসারো দেশে মিলিটারী শাসনের আওতায় একনায়কতন্ত্রের একজন স্পষ্ট সমর্থক।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, বর্ণ-বৈষম্য, লিংগ-বৈষম্য, পুরুষতান্ত্রিকতা, একনায়কতন্ত্র, অস্ত্রনির্ভরতা, এবং ধর্মীয় ভিত্তি সমৃদ্ধ নির্বাচনী এজেন্ডা নিয়ে বলসারো সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে এগিয়ে আছেন।

এই বিজয়ের জন্য পূর্ববর্তী বামপন্থী সরকারের দূর্নীতিকে একটি কারণ হিসাবে ধরা হচ্ছে।

আমার পরবর্তী প্রশ্ন হচ্ছে এই কথিত বামপন্থী সরকারের শাসনকালে কী সত্যি বাম চেতনার রাষ্ট্রীয় যন্ত্র কাজ করেছে?

কন্যা সন্তানের জন্ম ছিল একটি ‘মুহূর্তের দুর্বলতা’- বলসোনারো 

আমাদের ভাবনা 

এই প্রসংগে আনু মুহাম্মদ জেমস পেট্রাসের উদ্ধৃতিসহ ব্যাখ্যা করেনঃ

‘২০০৩ সালে নভেম্বরে ল্যাটিন আমেরিকায় বৃহৎ ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক জরীপ পরিচালিত হয়। জরীপে সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্যবসায়ী এলিট গোষ্ঠী ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা সিলভাকে ‘সবচাইতে ভাল প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাৎপর্যপূর্ণ!

জেমস পেট্রাস বলছেন,’লুলার সংগঠন ৮০ দশকে বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যার ফলে এতে যৌথ নেতৃত্বের ভূমিকা ছিল প্রধান। ৯০ দশকের শুরুতে এটি একেবারেই নির্বাচন কেন্দ্রিক একটি জোটে রূপান্তরিত হয় এবং নেতৃত্ব ক্রমে কেন্দ্রীভূত হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহনে বিতর্ক  ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীদের অংশগ্রহন কমে যায়’

তিনি ওয়ার্কার্স পার্টির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে বলেন, ‘২০০২ সালের নির্বাচন হতে পার্টি তার পরিচয় থেকে অনেক দূরে চলে গেছে।… ‘ ২০০৪ সালের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্ণর, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়া হয় কোটিপতি ব্যবসায়ী শিল্পপতিসহ এমন সব ব্যক্তিকে যারা  নিও লিবারেল নীতি অনুসারী এবং কখনোই ওয়ার্কাস পার্টির অনুসারী ছিল না’

লুলা-উত্তর কালে তাঁর পার্টির দিলমা ক্ষমতায় এসেছিলে। ২০১৬ সালে ধণিক শ্রেণির বিভিন্ন গোষ্ঠীর সংসদীয় ক্যু-তে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন।

ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী বলসোনারোর উন্থান
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প

পরিশেষে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকালে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ট্রাম্পকে নিয়ে সবাই কৌতুক করেছে, সমালোচনা করেছে, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছে। কিন্তু, অবশেষে তিনি জয়যুক্ত হয়ে বহাল তবিয়তে আছেন। ব্রাজিলে একই ধরণের একজন প্রার্থী বুক ফুলিয়ে মানবতাবিরোধী এবং সহিংস চরিত্র প্রচার করে জয় লাভের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন। সারা বিশ্বে মুখোশের আড়ালে এমন নেতারাই রাষ্ট যন্ত্র পরিচালনার কাজে নির্বাচিত হচ্ছেন।

তারা জয়লাভ করছেন গনতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। তাহলে জনতার একটি বড় অংশ কী মানবতাবিরোধী?

মুভি, নাটকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে খলনায়কের জনপ্রিয়তার মত মানবতা বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বও কি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে?  এটি কী সক্রিয় সমর্থন নাকি অজ্ঞতা নাকি নিয়ন্ত্রিত সমর্থন?

জনতাই তো পারে মানবতা পক্ষের রাজনীতিকে সমর্থন করে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে। আমরা জনতা। আমাদের সচেতনতা কোথায়?

 

তথ্যসূত্রঃ

১। Travis Waldron: Jair Bolsonaro And The Violent Chaos Of Brazil’s Presidential Election

https://www.huffingtonpost.in/2018/09/08/jair-bolsonaro-and-the-violent-chaos-of-brazils-presidential-election_a_23520713/

২। Andres Schipani and Joe Leahy Brazil’s Bolsonaro aims to rule with ‘bull, bullet and bible’ bloc in São Paulo

https://www.ft.com/content/611f150e-cb51-11e8-b276-b9069bde0956

৩। https://en.wikipedia.org/wiki/Jair_Bolsonaro

৪। আনু মুহাম্মদঃ বিপ্লবের স্বপ্নভূমি কিউবা; বিশ্বায়িত পুঁজিবাদে ল্যাটিন আমেরিকা ২০১৭ পৃষ্ঠা ১২৫-১২৬

 

Share this

2 thoughts on “ব্রাজিলের নির্বাচন ২০১৮, ট্রাম্প খ্যাত জেইর বলসোনারোই কী প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *