বাড়ছে শিশু ধর্ষণ এবং শিশু নির্যাতন

যুদ্ধে শিশু ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন কি অনুমোদিত?

যুদ্ধে শিশু ধর্ষণ বা নারী নির্যাতন

পৃথিবী জুড়ে বাড়ছে শিশু নির্যাতন, শিশু ধর্ষণের মতো ঘটনা। সেই সাথে চাইন্ড পর্ণোগ্রাফি এবং চাইল্ড ট্রাফিকিং বাড়ছে। একটি শক্তিশালি সুসংবদ্ধ চক্র এই পুরো ব্যাপারটা নিয়ন্ত্রণ করছে। অথচ কি এক অদ্ভুত কারণে এই ব্যাপারটা নিয়ে আমরা প্রায় সবাই নিশ্চুপ হয়ে রয়েছি।

বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে এর প্রভাব বেশ মারাত্মক এবং সদূরপ্রসারি। সাম্প্রতিক সময়ের দিকে তাকালে আমরা বুঝতে পারি ধর্ষণ বিশেষ করে শিশু ধর্ষণ চরম আকার ধারণ করেছে আমাদের দেশসহ পুরো বিশ্বে।

বিশ্ব জুড়ে শিশু নির্যাতনের স্বরূপ আলোচনা একটি বৃহৎ বিষয়। পুরোটা আলোচনায় নিয়ে আসা বেশ শ্রম সাধ্য এবং সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই “শিশু ধর্ষণের জন্য আপনি নিজেই কি দায়ী নন? বাংলাদেশ ও বিশ্ব পর্যালোচনা” এবং “চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি, চাইল্ড ট্রাফিকিং, বিশ্বজুড়ে এক বিশাল বানিজ্য!” – এই দুটো লেখায় পুরো ব্যাপারটা সংক্ষিপ্ত আকারে আলোচনার চেষ্টা করেছিলাম। আজ তৃতীয় এবং শেষ গুরুত্বপূর্ণ অংশটুকু ্নিয়ে আলোচনা করবো। আগের দুটো লেখা পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন। 

ধর্ষণের জন্য আপনি নিজেই কি দায়ী নন? ১ম পর্ব 

চাইল্ড পর্ণোগ্রাফি, বিশ্বজুড়ে এক বিশাল বানিজ্য। ২য় পর্ব 

 

বিস্ময়কর তথ্য হলো যে, যুদ্ধ-ধর্ষণ ব্যাপারটা মাত্র ১৯৪৯ সাল থেকে যুদ্ধাপরাধ হিসাবে স্বীকৃত হয়েছে। তারপরও তার প্রয়োগ কতটুকু হচ্ছে? ১৯৭৭ সালে চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনে আর্টিক্যাল-২৭ যুদ্ধ ধর্ষনকে অপরাধ হিসাবে কার্যকরী ঘোষনা করে।

এই আইন অনুযায়ী ১৯৪৯ সালের পূর্বের কোন যুদ্ধে সংঘটিত ধর্ষনকে যুদ্ধাপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হয়নি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সহ পৃথিবীর অসংখ্য যুদ্ধে শিশু ধর্ষণ বৈধ ছিল।

গৃহ যুদ্ধ বা অন্য দেশ কর্তৃক সামরিক দখলের সময় নারী এবং শিশুরা  ধর্ষণের শিকার হয়। যুদ্ধসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষ যখন গৃহহারা হয়, রিফিউজি হয় তখনও নারী-শিশুদের ধর্ষণের আশংকা ভয়াবহ পরিমাণে থাকে।

 

বাড়ছে শিশু ধর্ষণ এবং শিশু নির্যাতন

 

শিশুদের যৌনদাস হিসেবে ব্যবহার   

দখলদারদের মাধ্যমে নারী শিশুদের বাধ্যতামূলকভাবে যৌনদাসত্বে বা বেশ্যাবৃত্তিতে বাধ্য হতে হয়। ভূমিকম্প বা যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ, এবং রাজনৈতিক নৃশংসতার কারণে যে সব ছেলে এবং মেয়ে শিশুরা অভিভাবক হারা হয় তাদেরকে পাচার করে বিক্রি করা হয় যে কোন সুবিধাজনক বাজারে। দারিদ্রের কারণে অভিভাবক নিজেও বিক্রি করে তাদের শিশু সন্তানদের।

সিরিয়ায় যুদ্ধচলাকালীন সময়ে অভিভাবকদের বাধ্য করা হয় তাদের সন্তানদের নামমাত্র বিয়ের মাধ্যমে বিক্রি করতে। আমি যৌন দাসী হিসাবে নারীদের একটি মূল্যতালিকা দেখেছিলাম। সেখানে যে নারীর যত কমবয়স এবং অবিবাহিত, তার মূল্য তত বেশী।

 

প্রভাবশালী দেশগুলির ভূমিকা 

বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলি পৃথিবীতে গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। সেই সংকল্প পূরণে তাদেরকে অন্য দেশে গিয়ে যুদ্ধ পর্যন্ত করতে হয়। বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন পদ্ধতিতে হানা দেয়। অথচ একটি ক্ষেত্রে তাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয় যেন বিকল হয়ে আছে। আর তা হলো শিশু ধর্ষণ !

সৌদি আরবে বিয়ের জন্য কোন ন্যুনতম বয়স নেই। মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাধিক বাল্যবিবাহ হয়। কিন্তু এই ব্যাপারে কোন আন্তর্জাতিক ফোরামে কোন উচ্চবাচ্য হয় না। মানবাধিকার কাউন্সিলে কোন দেশ এই ব্যাপারে কোন আপত্তি উত্থাপন করেনি।

গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার কোন পশ্চিমা দেশ শিশুদের অধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কোন আপত্তি প্রকাশ করে না। পশ্চিমা দেশগুলো কোন এক কারণে এব্যাপারে অত্যন্ত ক্ষমাশীল। নীরবতা এক ধরণের সমর্থন নয় কি?

শিশুর সাথে পিতা-মাতা সেই উন্মুক্ত জায়গাটি তৈরী করেন না যেখানে শিশুরা মুক্তভাবে তাদের যে কোন সমস্যা তাদের সাথে শেয়ার করতে পারে।

 

বাংলাদেশের কি অবস্থা? 

২০১৫ সালের ইউনিসেফ রিপোর্ট  “স্টেট অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড’স চিল্ড্রেন” অনুযায়ী, ১৮ বছরের নীচে শিশুদের বিয়ে সর্বাধিক দেখা যায় নাইগার(৭৬%), সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাব্লিকান(৬৮%), চাদ(৬৮%), বাংলাদেশ(৬৫%), মালি(৫৫%), গায়েনা(৫২%), দক্ষিন সুদান(৫২%), বার্কিনা ফাসো(৫২%), মালয়(৫০%), মোজাম্বিক(৪৮%)।

শিশু ধর্ষণে দুষ্ট দেশগুলির তালিকায় বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলির মধ্যেই অবস্থান করছে। বাল্যবিবাহসহ সব ধরণের ধর্ষণে সমৃদ্ধ আমাদের দেশ। বাংলাদেশে আইনানুযায়ী মেয়ে শিশুর বিয়ের জন্য সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর থাকলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে অভিভাবকের সম্মতিতে ১৮ বছরের চাইতে কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে হতে পারবে।

সেই কম কত কম?

ঘোষিত আইনে দুইদিকই আছে। ১৮ বছরের নীচে বিয়ে নিষিদ্ধ, আবার তা ক্ষেত্রবিশেষে নিষিদ্ধ নয়। এই ক্ষেত্র বিশেষের বিষয়গুলি কী কী ? সেই বিষয়গুলি নির্ধারণ কে করবে? এই বিষয়গুলি কি নিশ্চিতভাবে বিয়ের প্রশ্নে বালিকার পক্ষে কাজ করবে?

 

বাড়ছে শিশু ধর্ষণ এবং শিশু নির্যাতন

 

ধরে নেয়া যাক, বিশেষ ক্ষেত্রের বিষয়গুলি খুবই যুক্তিযুক্ত। এই ক্ষেত্রগুলির অপব্যবহার হবে না তার নিশ্চয়তা কে দিবে? রক্ত সম্পর্ক এবং বন্ধুবান্ধবসহ আপনজনদের চাইতেও কঠিন আত্মার সম্পর্ক গড়ে উঠে আইন অমান্যের চক্রে। সেই জগতে সকলের মধ্যে একতা ইস্পাতসম।

কোন যন্ত্র দিয়েই তা ভাঙ্গা যায় না । সেই জগতের আশির্বাদে যে কোন বাল্যবিবাহকে বিশেষ ক্ষেত্রে ফেলে দেয়া সম্ভব।

বাংলাদেশে প্রয়োজন স্বচ্ছতার চাইতেও স্বচ্ছ আইন প্রণয়ন করা। স্বচ্ছ আইন প্রয়োগই যেখানে ব্যর্থ হয়, তার উপর যদি আইন অস্পষ্ট এবং জটিল থাকে, তাহলে বালিকাদের প্রতি ন্যায় বিচার কি আদৌ সম্ভব হবে? বালকের প্রসঙ্গে যাচ্ছি না। কারণ বাল্যবিবাহ বালিকাদের ক্ষেত্রেই সাধারণত ঘটে থাকে।

পতিতাবৃত্তিতে শিশুদের ব্যবহার 

এখানে প্রাসঙ্গিক ব্যাপার হলো সরকারীভাবে ১৮ বছরের নিচে বহু নারীকে পতিতাবৃত্তির লাইসেন্স দেয়া। বাংলাদেশে সরকার অনুমোদিত ১৪ থেকে ১৮টি গনিকা বা পতিতালয় আছে। এসব যৌনপল্লীতে সরকার অনুমোদিত লাইসেন্সধারী পতিতাদের একটি বড় অংশ হচ্ছে ১৮ বছরের নিচে।

The Global March Against Child Labour – এর হিসেব মতে বাংলাদেশে ১৮ বছরের নিচে পতিতার সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। ২০০৫ সালে মার্কিন সরকারের মানবাধিকার রিপোর্ট অনুসারে অবশ্য ১৮ এর নিচে পতিতার সংখ্যা ছিলো ২৯ হাজারের বেশি। এসব শিশু পতিতারা শরীরবৃদ্ধির জন্য গরু মোটতাজাকরণ ট্যাবলেট খায় এবং দৈনিক ১৫-২০ জন পুরুষের সাথে মিলিত হয়।

দুঃখজনক হলেও সত্য, শিশু ধর্ষণে দুষ্ট দেশের তালিকায় বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলির মধ্যেই অবস্থান করছে।

 

তাহলে?

সমাধান খুঁজতে গেলে আমাদের ব্যক্তি পর্যায়ে ধর্ষণের কারণ খুজতে হবে। আবার সামাজিক, রাষ্ট্রীয় অনুমোদনের ক্ষেত্রগুলি সনাক্ত করতে হবে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক ও বানিজ্যিক বলয়ে শিশু ধর্ষণের সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। নইলে শিশু ধর্ষণ মহামারীর নিরাময় সম্ভব নয়।

 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পরিবারের গুরুত্ব কতটুকু? 

আমাদের মত দেশে মানুষের নারী বা পুরুষ বা অন্য লিঙ্গে জন্মগ্রহন, এবং  তাদের জীবনযাপনের নিজস্ব বিশেষত্বকে সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হিসাবে নেয়া হয়নি। নারী-পুরুষের সম্পর্ককে মূলত শুধুমাত্র যৌন সম্পর্ক স্থাপনের একটি ক্ষেত্র হিসাবে দেখা হয়।

এখানে শেখানো হয়  জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কের জন্য কোন না কোনভাবে নারীই দায়ী। যেহেতু ধর্ষণের নেতি-ফলাফল নারীদের সাথে ঘটে এবং সেটাই দৃশ্যমান হয় তাই পুরুষদের মধ্যে স্বার্থপর উদাসীনতা কাজ করে। তাইতো অসুবিধাজনক অবস্থানে থাকা নারীদের সেই দায়িত্ব নিতে হয়।

 

বাড়ছে শিশু ধর্ষণ এবং শিশু নির্যাতন

 

কেউ যেন তাকে ধর্ষণ করতে না পারে সেই পরামর্শই থাকে পরিবারে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। প্রশ্ন হচ্ছে, একজন শিশু, মেয়ে হোক বা ছেলে হোক, সে কিভাবে নিজেকে নিরাপদ রাখবে? সেটা কি অসম্ভব ব্যাপার নয় ? শিশু ধর্ষন একটি ‘এটেম্পট টু মার্ডার’ বিষয়। শিশু বেঁচে গেলও জীবনভর শারিরীক বিকলাঙ্গতা এবং মানসিক জটিলতা নিয়ে থাকতে হবে।

একজন ধর্ষক যদি জানে, অনুভব করতে পারে একটি ধর্ষণ মানে মানবিক অধিকার লংঘন, ধর্ষন মানে একটি অমানবিক অত্যাচার, একটি সম্ভাব্য মৃত্যু বা শারীরিক এবং মানসিক ক্ষতি এবং এই ধরণের ঘটনায় সেই একমাত্র দায়ী, তাহলে সে ধর্ষণে বিরত থাকবে ।

এই শিক্ষা, এই উপলব্ধি সে কোথা থেকে অর্জন করবে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পরিবার  থেকেই সেটা অর্জন করা সম্ভব। শিক্ষা প্রসারের এই কর্মসূচীতে অভিভাবকদেরকেও সংযুক্ত করতে হবে। অভিভাবকদেরকে এ ব্যাপারে সচেতন এবং শিক্ষিত ধরে নেয়া কোনমতেই ঠিক নয়।

পিতা-মাতা বা অভিভাবক তাদের সন্তানদের শিক্ষকদের মাধ্যমে কি শিক্ষা দেয়া হচ্ছে সে ব্যাপারে যেমন উদাসীন থাকেন, তেমনি শিশুদের কোন শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারেও মাথা ঘামান না।

শিশুর সাথে পিতা-মাতা সেই উন্মুক্ত জায়গাটি তৈরী করেন না যেখানে শিশুরা মুক্তভাবে তাদের যে কোন সমস্যা তাদের সাথে শেয়ার করতে পারে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বা পারিবারিক পরিবেশে বা পাড়া-প্রতিবেশীদের দ্বারা যৌন নির্যাতন হলে সে ব্যাপারটি শিশুরা প্রকাশ না করার চেষ্টা করে যতক্ষন পর্যন্ত না সেটি শারীরিকভাবে দৃশ্যমান হয়।

 

ধর্ষক প্রসঙ্গ এবং আমাদের মানসিকতা 

শিশু-ধর্ষণ অপরাধীদের উৎস কোথায়? কেন তারা শিশুদের ধর্ষণ করে? যৌন সহিংসতা প্রতিকার করার জন্য ধর্ষণ অপরাধীদের মন-মানসিকতা বুঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক চিকিৎসা এবং যৌন সহিংসতার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যৌন অপরাধীরা আমাদের সকলের মতই, এবং তারা আমাদের ঘরেই বাস করে।

তাদের শরীরে বা ব্যবহারে কোন দৃশ্যমান চিহ্ন থাকে না যা দেখে তাদেরকে শিশুদের ধর্ষনকারী বলে সনাক্ত করা যাবে। অনেক সম্ভ্রম পরিবারেও এরকম ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার পরিবারের যেমন সাহায্য সহযোগিতা আবশ্যক, ধর্ষক  মনোবৃত্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্যও তেমনি সাহায্য সহযোগিতা আবশ্যক।

মানসিক রোগ এবং ধর্ষণকারীদের যৌন বিকৃতি বা মানসিক অস্থিরতারূপ ব্যাধির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

শিশুদেরকে যৌন  নিপীড়ন একটি অনিয়ন্ত্রিত এবং ক্রমাগত একটি অভ্যাস। কেউ যদি একবার একটি শিশুকে ধর্ষণ করে তাহলে পরবর্তীতে অন্যান্য শিশুদেরও ধর্ষণের প্রচেষ্টা থাকে। কিছুদিনের জন্য জেলে পাঠালে সমস্যাটির সমাধান হলো না।

জেল থেকে বের হয়ে তারা পুনরায় একই অপরাধ করবে। তাই তাদের এই কার্যকলাপের মূল উৎস বের করা জরুরী। শিশু-ধর্ষকদের সমস্যা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য আবাসিক চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকা খুব জরুরী।

 

বাড়ছে শিশু ধর্ষণ এবং শিশু নির্যাতন

 

যৌন সহিংসতা বুঝতে হলে অপরাধীর ব্যাধি এবং অন্যান্য সামাজিক, রাষ্ট্রীয় উপাদানগুলি সামনে আনতে হবে। দেখা গেছে প্রত্যেক ধর্ষক তার নিজের জীবনে কোন একভাবে সহিংসতার শিকার হয়েছে বা কোন সহিংসতার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়েছে। সেটা যৌন ধর্ষণ ছাড়াও যে কোন সহিংস অভিজ্ঞতা হতে পারে।

এই অভিজ্ঞতা তার জীবনে একটি শূন্যতা তৈরী করে। ক্ষমতার সাথে সংযুক্ত হয় এই শুন্যতা। সহিংসতা হস্তান্তরিত হয় মাত্র। যাদের দেখে তারা অভিজ্ঞ হয় তারাও একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এসেছে। একজন ভুক্তভোগী হয়তো সারাজীবন এই সহিংসতার শিকার হয়ে থাকে বা সে আরেকজনের সাথে একই আচরণ করে।

নিজ জীবনের অভিজ্ঞতার কারণে তার কাছে এটি একটি সাধারণ রীতি মনে হয়। শিশু ধর্ষণের চাহিদায় সংযুক্ত থাকে সহিংস আচরণের চাহিদা। নিজেকে শক্তিশালী পক্ষ হিসাবে অনুভব করার আকাঙ্ক্ষা । তাই মানসিক রোগী হিসাবে না দেখে এই সহিংসতার উৎস অনুসন্ধান করতে হবে।

ধর্ষণকারীদের মানসিক রোগী হিসাবে ভাবার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ মানসিক রোগ এবং ধর্ষণকারীদের যৌন বিকৃতি বা মানসিক অস্থিরতারূপ ব্যাধির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

বাল্যবিবাহ তথা শিশু ধর্ষনে সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় অনুমোদনের নেপথ্যে পুরুষতান্ত্রিক  সমাজ ব্যবস্থা একটি বড় কারণ। বহু সমাজে বাবা, গ্রাম্য প্রধান, ধর্মীয় গুরু যারা বিয়ে সংক্রান্ত ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা রাখেন তারা সকলেই হয় পুরুষ। এটাও একটা বড় কারণ বাল্যবিবাহ আর শিশু নির্যাতনের।

শুধু নারীদের শিক্ষা এবং ক্ষমতায়নই গুরুত্বপূর্ণ নয়। পাশাপাশি পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন পুরুষ এবং নারী সকলের মানসিক পরিবর্তন কিভাবে হতে পারে তার উদ্যোগ নেয়া আবশ্যক।

 লিখেছেনঃ ফাতেমা বেগম

fatemaorama@gmail.com

তথ্য সূত্রঃ 

১। https://en.wikipedia.org/wiki/Marriageable_age

২।http://childfriendlyfaith.org/information-about-abuse-neglect-by-religion/

  ৩।http://en.radiovaticana.va/news/2015/08/11/church_in_pakistan_expresses_shock_at_child_abuse_scandal_/1164345)

৪।http://www.mirror.co.uk/news/world-news/screaming-infants-head-cut-knife-4564380

 

৫।https://www.huffingtonpost.com/arzu-kaya-uranli/nowhere-does-islam-excuse_b_5176425.html

৬।https://www.independent.co.uk/news/world/within-these-walls-inside-the-legal-brothels-of-bangladesh-a7388676.html

  ৭।https://www.icrw.org/child-marriage-facts-and-figures/

.৮।https://data.unicef.org/resources/end-child-marriage-progress-and-trends-animated-video/

.৯।https://www.theatlantic.com/international/archive/2015/03/child-marriage-map/387214/

১০।https://discover-the-truth.com/2013/09/09/age-of-consent-in-european-american- history/

 

১১।https://www.vice.com/en_us/article/qbe8bp/the-child-rape-assembly-line-0000141- v20n11)

১২।http://wunrn.com/2016/06/minimum-age-for-legal-marriage-around-the-world-girls/

১৩।http://www.independent.co.uk/news/world/the-lowest-age-you-can-legally-get-married-around-the-world-10415517.html.

১৪। https://www.theguardian.com/commentisfree/2010/apr/25/middle-east-child-abuse-pederasty.

১৫।https://discover-the-truth.com/2017/03/12/13-year-old-girls-permitted-to-marry-by-  law-in-new-hampshire-america-2017/

১৬।https://www.youtube.com/watch?v=7dQVRLrCbZs

 

 

Share this