স্মার্ট হওয়ার ৫ উপায়

যে ৫টি অভ্যাস ২০২০ সালে অন্যদের চেয়ে বহুগুণে এগিয়ে রাখবে আপনাকে

স্মার্ট হতে চান? জেনে নিন সৃজনশীলতা বাড়ানোর ৫ উপায়

আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, এমন একটি গুণের নাম বলুন যা আপনাকে পরবর্তী কয়েক দশকে এগিয়ে রাখবে।

আপনি নিঃসন্দেহে বলবেন, ক্রিয়েটিভিটি কিংবা সৃজনশীলতার কথা। বর্তমানে আমাদের সময়টা এত দ্রুত এগিয়ে চলছে যে আমাদের অন্যদের থেকে আলাদাভাবে নিজেকে উপস্থাপন করা অনিবার্য হয়ে পড়েছে।

একটা মানুষের সাথে অন্য একটা মানুষের মধ্যে মূল পার্থক্য গড়ে দিতে পারে তাদের স্ব স্ব চিন্তাভাবনা। আর এই স্ব স্ব চিন্তাভাবনার মাঝেই রয়েছে, সৃজনশীলতা।

২০২০ কিংবা আরো কয়েকদশক পরেও কোন কোন জব কিংবা কোয়ালিটি বিশ্বকে শাসন করবে সেই ভিডিওটি কিছুদিন আগে আমাদের চ্যানেলে দেওয়া হয়েছিলো।

স্কিলগুলো একটা গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কেননা, প্রতিটা স্কিলের প্রাইমারী থেকে ইন্টারমিডিয়েট একটা ধাপ রয়েছে।

সেই ধাপের মূল বিষয়টি হলো আপনি কতটা সৃজনশীল, আপনি কতটা ব্রেইনস্ট্রোমিং করতে পারছেন। তাই আজকে আমরা এমন পাঁচটি অভ্যাস নিয়ে আলোচনা করবো যা আপনার সৃজনশীলতাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিবে।

আর সৃজনশীল মানুষই আগামীর পৃথিবীকে যে শাসন করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি আজকের অভিযাত্রীর আলোচনায়। 

 

১) হিপনোগিগিয়া  

হিপনোগিগিয়ার ধারণা নতুন নতুন লাগলেও এটি অনেক পুরোনো একটি অভ্যাস। হিপনোগিগিয়া হলো আপনার ঘুমন্ত সত্ত্বা ও জাগ্রত সত্ত্বার মাঝখানের সময়টা।

আজকের যুগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আবিষ্কার ভিডিও ক্যামেরা। এর আবিষ্কারক টমাস আলভা এডিসন এই পদ্ধতি অনুসরণ করতেন। এভাবেই তিনি বাল্ব, গ্রামোফোনের মত সব যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছেন।

অন্যদিকে ২০১৬ সালে হাফিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হিপনোগিগিয়া মানুষের ক্রিয়েটিভিটি বাড়িয়ে দেয়।

এখন প্রশ্ন হলো, হিপনোগিগিয়া কিভাবে অভ্যাস করতে পারবেন? 

টমাস আলভা এডিসন যখন কোন বিষয় নিয়ে রাতের পর রাত ভাবতেন তখন বিশেষ করে তিনি এই অভ্যাসটি অনুসরণ করতেন।

এতে তিনি তার দু হাতে একটি পিতলের বল রাখতেন। ডান হাতের নিচে রাখতেন একটি স্টিলের প্লেট। ফলে তিনি যদি চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়েও যান তাহলে তার হাতের বল স্টিলের প্লেটে আঘাত করত।

তখন শব্দে তার তন্দ্রা কেটে যেত। আর সাথে সাথে তিনি তার ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় যা দেখতেন তা লিখে ফেলতেন, হাতের পাশে রাখা নোটপ্যাডে। এভাবে তিনি অনেক বড় বড় আবিষ্কার করেছেন।

 

স্মার্ট হওয়ার ৫ অভ্যাস

 

 

২) হ্যান্ডস্ট্যান্ড

হ্যান্ডস্ট্যান্ড মানে হাতের উপর দাঁড়িয়ে থাকা। এটি অনেকটা ইয়োগার মত। রাশিয়ান বংশদ্ভূত কম্পোজার আইগোর স্ট্রাভিনস্কি এই অভ্যাস পালন করতেন।

যখন কম্পজিশন করতে করতে তিনি ক্লান্ত হয়ে যেতেন তখন তিনি একটি বদ্ধ ঘরে হাতের উপর দাঁড়িয়ে থাকতেন। অর্থ্যাৎ তার মাথা থাকত নিচের দিকে আর পা থাকত উপরের দিকে। তার ভাষ্যমতে, এটি তার মস্তিষ্ককে ক্লিয়ার করত।

কিন্তু এটা কি আসলেই কাজ করে?

গবেষণা বলছে, সৃজনশীল চিন্তা-ভাবনার জন্যে এটি অনেকখানি সাহায্য করে। একইসাথে এটি স্ট্রেস থেকে মুক্তি দেয়, ফোকাস ঠিক করে এবং প্রোডাক্টিভিটি বাড়ায়। এছাড়াও রক্তের চলাচল ঠিক করতেও অনেকখানি সাহায্য করে করে “হেডস্ট্যান্ড”।

 

৩) লেখালেখি

প্রতিদিন সকালবেলা ১৫ মিনিট লেখার কিংবা পত্রিকা পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ডেভেলপমেন্ট নিউরোসাইকোলজির একটি গবেষণার দেখা যায়, লেখালেখি কিংবা টাইপিং আমাদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশকে একসাথে কাজ করতে সাহায্য করে।

কেননা, লেখালেখির প্রতিটা শব্দের সাথে আমাদের ব্রেইনের বিভিন্ন অংশ যুক্ত রয়েছে। একইসাথে এটি আমাদের মস্তিষ্কের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে। ফলে আমাদের ভেতরে সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দেওয়া সুবিধা হয়।

 

যারা ভিজ্যুয়াল লার্নার তাঁরা ভিডিও আকারে দেখতে এখানে ক্লিক করুন 

 

৪) শান্ত পরিবেশে বসবাস

আমাদের চিন্তা-ভাবনার উপর বহুলাংশে প্রভাব ফেলে আমাদের চারপাশের পরিবেশ। আমরা যদি শত কাজের মাঝে কেবল ৫ মিনিট একটু রেস্ট নিতে পারি তাহলে আমাদের মন সকল স্ট্রেস থেকে মুক্তি পায়। একইসাথে আমাদের নতুন চিন্তার দ্বার খুলে যায়।

ক্যারিয়ার কোচ, রোসিথা হারম্যান বলেন, শুধু একবার নির্মল নিশ্বাস নিতে। তিনি বলেন, আমরা সারাদিনের মধ্যে যদি ৫ মিনিট করে ভালোভাবে শ্বাস প্রশ্বাস চালাতে পারি তাহলে আমাদের শরীর চাঙ্গা হয়ে উঠে। আমরা নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করতে পারি। বেশিরভাব সফল ব্যবসায়ীরা এই উপায়ে তাদের ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্স করেন।

 

৫) ব্রেইন গেম

ব্রেইন গেম কিংবা স্ট্র্যাটেজি গেম আমাদের চিন্তাভাবনার জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কেননা, ব্রেইন গেমগুলোর স্ট্র্যাটেজিগুলো এতটাই সুদৃঢ় করে সাজানো হয় যে, তা আমাদের মাথার ভেতর নিউরনে এক ধরণের আলোড়ন সৃষ্টি করে।

যেমনঃ লজিক পাজল ধরণের গেমগুলোতে আমাদের মাথা বিভিন্ন উপায়ে চিন্তা করার সুযোগ পায়। ফলে আমরা একটি সমস্যার বিভিন্ন উপায়ে সমাধানে অভ্যস্ত হয়ে যাই।

এছাড়াও এটি আমাদের মাথার ব্লকগুলো খুলে দেয় এবং অনেক সময় নতুন আইডিয়া জেনারেট করতে সাহায্য করে।

তাহলে নিজের ক্রিয়েটিভিটিকে বাড়িয়ে নিতে কোন অভ্যাসটি আজ থেকেই রপ্ত করছেন? জানিয়ে দিন কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের।

 

Share this

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *